ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে জবাই করেন ছেলের স্ত্রী। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দী করে বাড়ি সামনে ফেলে দেন। হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি লুকিয়ে রাখেন ওয়ারড্রোবে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ জেরে যশোরে মঙ্গলবার নৃশংস খুনের শিকার হন শাশুড়ি।
এ ঘটনায় পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক হয়েছেন। জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ টিম তাকে আটক করেছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) ওই এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। গত ২১ এপ্রিল সকালে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় স্ত্রী মরিয়ম তাকে জানান যে বাসায় রান্না হয়নি, তাই তাকে বাইরে খেয়ে নিতে হবে। শহিদুল তার মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, মা বাইরে ‘তালিমে’ গেছেন।
রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবারও খোঁজ নেন। মরিয়মের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতরে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। শহিদুল ও তার বোন মরদেহটি তাদের মায়ের বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যার দায় স্বীকার করেন।
দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ি তাকে পুনরায় বকাবকি করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে তাকে জবাই করেন। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে দেন এবং রক্তমাখা চাপাতিটি ঘরের ওয়্যারড্রবের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।
পুলিশ অভিযুক্ত মরিয়মের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ