গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম টানা ৫ দিন বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করে স্টল সাজিয়ে নানা ধরনের দোকান-পাট বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মেলায় সার্কাসের নামে চলছে নগ্ন নৃত্য, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া চলতি এসএসসি পরীক্ষার সময় মেলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লোক দেখানোভাবে উপস্থিত থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা হাইস্কুল মাঠে গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ৫ দিন ধরে চলছে এ মেলা। মেলায় বিভিন্ন পণ্য বেচা-কেনার পাশাপাশি বিনোদনের নামে সার্কাস ও নগ্ন নৃত্য চলছে। বিদ্যালয় বন্ধ করে বিদ্যালয় মাঠে স্টল সাজিয়ে বিভিন্ন প্রকার দোকান বসানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মেলা কমিটির সভাপতি কামারদহ ইউপি মেম্বর রশিদুল ইসলাম এরোম জানান, প্রতি বছর এইভাবেই স্কুল মাঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে থাকে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই স্কুল মাঠে এ মেলা বসানো হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র-অভিভাবক নুরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। এরপর বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে বসানো এ মেলায় ২৪ ঘণ্টা উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এ জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করে মেলা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহানা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় মাঠে মেলা করতে হলে লিখিতভাবে আবেদন করার পর অনুমতি নিতে হয়। স্কুল বন্ধ করে গত ১৬ এপ্রিল থেকে স্কুল মাঠে মেলা বসানো হয়েছে-যার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে মাঠে মেলা বসানো বে-আইনি। আমি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ