শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম বাতকুচি গ্রামে চেল্লাখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন আতঙ্কে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চেল্লাখালী নদীর তীর ভাঙন গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত বাড়ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বিদ্যালয় ভবনটি সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত ছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জিওটেক্স বস্তা, কাঠ, খুঁটি ও বালু ব্যবহার করে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নদীর তীর সংরক্ষণে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই।
সরেজমিনে দেখা যায়, জিওটেক্স বস্তায় বালু ভরে ভেকু মেশিন দিয়ে লেভেলিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত জানান, নদী ভাঙনের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতেন। এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে স্কুলসহ আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও রক্ষা পাবে বলে তারা আশাবাদী।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাসুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ভাঙন আতঙ্কে ছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বাঁধ নির্মাণের ফলে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি। কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের তদারকিতে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পীরলেস ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রতিনিধি মোতালেব জানান, পাউবোর ড্রয়িং ও এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও চেল্লাখালী নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা মনে করেন, সাময়িক ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিরাপদ হবে।
প্রতিনিধি/একে