যৌথ অংশীদারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাগেরহাটের মো. শফিকুল ইসলাম। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার ভাই হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম জানান, তার আপন মামার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত “মোল্লা হার্ডওয়ার স্টোর” নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের জমির পরিমাণ ০.৫২৭ একর, যার মধ্যে তিনি এক-তৃতীয়াংশের মালিক এবং ব্যবসায় ৮ আনা শেয়ারধারী বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার অংশীদার বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি এককভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব অংশীদারের নামে থাকায় তিনি এককভাবে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো হিসাব বা লভ্যাংশ দিচ্ছেন না।
এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, এসব কার্যক্রম থেকে অর্জিত লাভ অংশীদার একাই ভোগ করছেন, অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, হিসাব চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার অংশের সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে তাকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা যায়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানান।
এদিকে, তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে হারানো একটি ব্যাংক চেকের ভিত্তিতে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার দাবিতে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও জালিয়াতির অংশ বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম তার ওপর হওয়া অন্যায় ও হয়রানির বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার কামনা করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ