ফুড পয়জনিং-এ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের শতধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে, হলের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, খাবারের বিভিন্ন পদের মধ্যে ডাল থেকে এই পয়জনিং হতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে- খাবারের মাধ্যমে পয়জনিং ছড়াতে পারে। তবে, ডাল থেকেই যে এটি হয়েছে এটি নিশ্চিত না। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় হল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে ও খরচে চিকিৎসা চলছে শিক্ষার্থীদের। ইতিমধ্যে অসুস্থদের অর্ধেক সুস্থ হয়েছেন।
জানা গেছে, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার তাদের অনেকেই যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এখনো পর্যন্ত অনেকে হাসপাতালে ভর্তি।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ধারণা, ডায়নিংয়ের ডাল থেকে এই ফুড পয়জনিং হয়েছে। কারণ, বেশির ভাগ অসুস্থ ছাত্রীই আগের রাতে ডাল খেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খেতে যান। তাদের মধ্যে শতাধিক বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অসুস্থ হতে শুরু করেন। তাদের বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথাসহ ফুড পয়জনিংজনিত নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
এদিন সকাল ৯টার দিকে ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার খুললে একের পর এক ছাত্রী এসে সেবা নিতে থাকেন। দুপুরের দিকে অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান মেডিকেল সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা।
যবিপ্রবির ড. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার দীপক কুমার মন্ডল জানান, শতাধিক শিক্ষার্থীর অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। বুধবার রাতে হলের ডাইনিংয়ে যারা খাবার খেয়েছিলেন তারাই মূলত অসুস্থ হয়েছেন। সবাই পেটে ব্যথা, বমি ও লুজ মোশনে আক্রান্ত।
এদিকে, অসুস্থ ছাত্রীদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অন্তত ২০ জন ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের দেখতে যান যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর। তিনি শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
যবিপ্রবির তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন জানান, শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পছিলেন। তারা যবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারসহ বাইরের হাসাপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। অধিকাংশই এখন সুস্থ আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধায়ন ও ব্যয়ভার বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ