ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৬
চলমান বার্তা:
বদলির আদেশ জারির ৪ দিন পরই স্থগিত: প্রকৌশলী আজিজুলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১৪:১১  (ভিজিটর : )

ব্যাপক সমালোচনা ও স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে অবশেষে ফেনী পৌরসভায় আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুল হকের বদলির আদেশ স্থগিত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

রোববার (৭ জুন) এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​এর আগে গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে আজিজুল হককে নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভা থেকে ফেনী পৌরসভায় বদলি করা হয়েছিল। একই আদেশে ফেনীর বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনকেও বদলি করা হয়। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেনীর সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীকে ‘মামা’ পরিচয় দিয়ে ফেনী পৌরসভায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন আজিজুল হক। ২০০৭ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর পদোন্নতি পেয়ে টানা প্রায় দেড় যুগ তিনি একই কর্মস্থলে ছিলেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভায় বদলি করা হলেও তিনি যেকোনো মূল্যে ফেনীতে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ঘনিষ্ঠদের কাছে টাকার জোরে এবং 'হাই-ভোল্টেজ' তদবিরের মাধ্যমে ফেনীতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত জনরোষ ও সমালোচনার মুখে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেনী পৌরসভায় থাকাকালীন সময়ে মাস্টারপাড়ার 'মদিনা ভবনে' অবস্থিত ‘ফ্যাক্ট ডিজাইন এন্ড কনসালটেন্ট’ এবং ‘সয়েল টেক ডিজাইন এন্ড কনসালটেন্ট’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি পৌর এলাকার বিভিন্ন ভবন নির্মাণ ও নকশা অনুমোদনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য করে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নকশা ও বাজেট তৈরি করানো হতো। এমনকি অন্য একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে নকশা অনুমোদনের মতো গুরুতর জালিয়াতির তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।
টানা দেড় যুগ একই স্থানে থাকার সুবাদে আজিজুল হক নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ফেনী শহরের মিজানপাড়ার শর্শদী হাউজে দুটি ফ্ল্যাট এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের পাশে গোলাপবাগ এলাকায় একটি বিশাল বাগানবাড়ি রয়েছে।

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবগঠিত তদন্ত কমিটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তার আমলনামা ও অবৈধ সম্পদের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।