হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবির জের ধরে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল থেকে মার্কিন বাহিনী এই হামলা শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের এই মিশনটি মূলত ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের’ একটি আনুপাতিক জবাব। এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর ফাইটার জেটগুলো অংশ নেয় এবং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ও নজরদারি রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর উপকূল বরাবর তীব্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের কাসেম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসসহ বেশ কিছু এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
এই বিমান হামলা শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে টহল দেওয়ার সময় মার্কিন হেলিকপ্টারটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি একটি ইরানি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ওমান উপকূলে বিধ্বস্ত হয়।
সেন্টকম জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে একটি আমেরিকান সি ড্রোন (সামুদ্রিক চালকহীন জলযান) অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্ধার অভিযানে চালকহীন সামুদ্রিক জলযান ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার ঘটনা এটিই প্রথম। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা ও এপি
দেশবার্তা/একে