দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রয়োজনীয় এই টিকা কিনতে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকাল পৌনে ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন মেলে। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৫৩৯ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ গত তিন মাসে হাম ও এর উপসর্গে দেশজুড়ে সর্বমোট ৬৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ হাজার ১৭০ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২ হাজার ২৯২ জন।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরই দেশজুড়ে হামের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় সরকার। এই প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, টিকার সম্ভাব্য ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে তারা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৫ থেকে ৬টি চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং অন্তত ১০টি বৈঠক করেছিলেন।
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশে টিকার আসন্ন সংকট নিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে টিকা সংগ্রহ করা হতো, যার অর্থায়নের বড় অংশ আসত বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদান থেকে। তবে ২০২৫ সালে এসে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে রূপান্তর করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার, যার ফলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আজকের সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে হামের টিকা ছাড়াও অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের মাঠপর্যায়ের অপারেশনাল কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের সার, গ্যাসোলিন ও ফার্নেস অয়েল আমদানির পৃথক প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে কমিটি।
দেশবার্তা/একে