ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৬
চলমান বার্তা:
চুরির ঘটনায় ফেনী পাইলট স্কুলের চার শ্রেণির পাঠদান স্থগিত
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১৩:৫২  (ভিজিটর : )

চুরির ঘটনায় সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফেনী পাইলট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু, প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২১ জুন) বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “চুরির ঘটনায় তিনটি কক্ষের বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও সার্কিট ব্রেকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিশু, প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম ২১ জুন স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সূচি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

এর আগে, গত ১৯ জুন ভোররাতে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের কলাপসিবল গেটের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার তিনটি শ্রেণিকক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সকেট, সার্কিট ব্রেকার, বৈদ্যুতিক মিটার, পানির মোটর ও কপার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ দিবা খানম বলেন, “চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি শ্রেণির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনের পর আশা করছি, মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে শ্রেণিগুলোর পাঠদান পুনরায় শুরু করা যাবে।”

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়ে এসে ফটকে ক্লাস স্থগিতের নোটিশ দেখতে পেয়েছি। এমন ঘটনা কোমলমতি শিশুদের ওপর মানসিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এখান থেকে কয়েকশ গজ দূরেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পার হলেও উপজেলা বা জেলার কোনো কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেননি।”

ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, “চুরির ঘটনা জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে আমার সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ চলছে বলে শুনেছি। সে কারণে কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।”

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, “ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল বলেন, “চুরির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিদ্যালয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধীনে। উপজেলা থেকে সহায়তা চাইলে আমি অবশ্যই তাদের পাশে থাকব। তবে এখন পর্যন্ত তারা আমাকে কিছু জানায়নি।”

নিজ দপ্তর থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সুযোগ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টি যেহেতু সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন, তাই এ ক্ষেত্রে আমার সরাসরি দায় নেই।”

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।