ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৩ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ২২:০০
চলমান বার্তা:
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ৫ কর্মদিবসে রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১৯:০৮  (ভিজিটর : )

ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা দিকে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৬ জুন আদালতে এ মামলায় শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেন।

দন্ড প্রাপ্ত আসামি আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফিউদ্দীনের ছেলে।

ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্ম দিবসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়। রায়ের পর আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে ভিকটিম শিশুরটির পরিবার।

এর আগে রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে খুশি আইনজীবীরা। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের ওই শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় সে। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় শিশুটি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে রাখে আবু তাহের।

পরদিন সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার পিতা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

এদিকে রায় প্রকাশের পর শিশুটির পিতা বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে নেন। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও  যেন এ রায় বহাল থাকে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য- প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতে যেন আসামির দন্ড বহাল থাকে, সেই আশা করেন তিনি। এ সময় পিপি এ্যাড. এ এস এম মশিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/আরএইচ

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।