বিশ্বকাপের মঞ্চে রূপকথা নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখনো কখনো এমন গল্প লেখা হয়, যা কল্পনাকেও হার মানায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্পই লিখছে কেপ ভার্দে- আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট ছোট দ্বীপের এক দেশ, যার জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের একটু বেশি।
সেই কেপ ভার্দেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এ (রাউন্ড অব ৩২) খেলা। রানার্সআপ হয়ে ওঠা এই দল আগামী ৪ জুলাই মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।
ছোট এই দেশটির বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াই ছিল বিস্ময়কর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তারা যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আর এখন তারা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে পৌঁছে গেছে নকআউট মঞ্চে।
অনেকে ভাবতে পারেন, ৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাটের সুবিধা পেয়েছে তারা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আফ্রিকান বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কেপ ভার্দে। পেছনে ফেলেছে বিশ্বকাপে নিয়মিত মুখ ক্যামেরুনকে। এরপর বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপেও দ্বিতীয় হয়েছে তারা। সেরা তৃতীয় দল হওয়ার অপেক্ষা করতে হয়নি! এই পথচলা তাই নিছক সৌভাগ্য নয়, প্রাপ্যতার গল্প।
আর্জেন্টিনার সামনে মসৃণ পথ?
কাগজে-কলমে কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার ব্যবধান বিশাল। বাস্তবতাও সেটাই বলে—এখানেই হয়তো শেষ হবে কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা। তবে কেপ ভার্দের এই সাফল্য যেন নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে আর্জেন্টিনার জন্য। গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে এই প্রতিপক্ষ পাওয়ায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে পথ এখন অনেকটাই মসৃণ মনে হচ্ছে।
কেপ ভার্দেকে হারাতে পারলে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বা মিসর। দুই ম্যাচেই ফেবারিট থাকবে আর্জেন্টিনা। তবে আলবিসেলেস্তেদের আসল পরীক্ষা হতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে অপেক্ষা করতে পারে পর্তুগাল।
রোনালদো-মেসি মহারণ কি তবে কোয়ার্টার ফাইনালে?
কোয়ার্টার ফাইনালে যদি সত্যিই আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল মুখোমুখি হয়, তবে বিশ্ব ফুটবল দেখতে পাবে দুই মহাতারকার মহাকাব্যিক মহারণ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বনাম লিওনেল মেসি—বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার! দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপে কখনো দেখা হয়নি এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। বয়সের বাস্তবতায় (মেসি ৩৯, রোনালদো ৪১) এটিই হয়তো হতে পারে তাঁদের শেষ দ্বৈরথ।
সেমিফাইনালে ব্রাজিল বা ইংল্যান্ডের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ সামনে চলে আসতে পারে। তবু ড্রয়ের সামগ্রিক বিন্যাস বলছে, শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগটা এবার বেশ বড়।
আর কেপ ভার্দে? তারা হয়তো জানে, গল্পের শেষ কোথায়। কিন্তু তাতে কী—এই গল্প তো শেষ হওয়ার আগেই ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে গেছে।
দেশবার্তা/একে