ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ২৭ জুন ২০২৬ | ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৯:৩৬
চলমান বার্তা:
চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৭:০৭  (ভিজিটর : )

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী তীরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এরপর থেকে চলছে টাকা গণনা।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় এ দানবাক্সগুলো খুলে এই ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষের একটি দল এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন।

৩ মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের কারণে ৬ মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্স খোলার কার্যক্রম আজ থেকে ৬ মাস পূর্বে গত ২৭ ডিসেম্বর হয়েছিল। সে সময়ে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা যা গণনা শেষে রূপালী ব্যাংকের পাগলা মসজিদের একাউন্টে জমা করা হয়। এছাড়াও তখন প্রাপ্ত সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালাকৃত অবস্থায় জেলা ট্রেজারীতে জমা রাখা আছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে সর্বমোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা আছে। পাগলা মসজিদের একটি ওয়েবসাইট (www.paglamosque.org) ডেভেলপ করা হয়েছে যার মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দান করতে পারে। ইতোমধ্যে এই ওয়েবসাইটের বাংলা ভার্সনও লাইভ করা হয়েছে। অনলাইনে এখন পর্যন্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদের আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান মসজিদ কমপ্লেক্স ও কবরস্থানের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জায়গা পাগলা মসজিদের নামে ক্রয় করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের নান্দনিক ডিজাইন প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও, পাগলা মসজিদে আগত মুসল্লীদের জন্য পাগলা মসজিদের বাহিরের অংশে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে।

পাগলা মসজিদের জমাকৃত তহবিল থেকে কমপ্লেক্সের মাদরাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় ছাত্রদের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যদের বেতন প্রদান করা হয়, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল প্রদান ও মসজিদের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হয়। এছাড়াও জমাকৃত টাকার লভ্যাংশ হতে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনুদান প্রদান করা হয় বলে জানান কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরও জানান, দানবাক্সের টাকা গোনার আজকের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সহযোগিতা করছেন জামিয়া ইমদাদিয়া মাদরাসার ৩০০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদ মাদরাসার ১০৬ জন ছাত্র, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি দানবাক্স খোলা উপকমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‌্যাব সদস্য, ২০ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে আজকের সারাদিনের এই কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।