আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান করছেন বলে জানা গেছে।
কলেজটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের এক স্টাফ নার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। তবে কতদিন ধরে তিনি সেখানে পাঠদান করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছিল।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত নাক-কান-গলা রোগের বিশেষজ্ঞ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)-এর সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে স্বাধীনতা পদক পান। পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
প্রসঙ্গত, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত স্বনামধন্য নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী ও এমপির মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতদিন তার সঠিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, ত্রিপুরার এই মেডিকেল কলেজের ভিডিওটি সামনে আসার পর তিনি যে বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দেশবার্তা/একে