আবারও ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান কখনো শিক্ষা নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই হুমকি দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। খুব সম্ভবত তারা (ইরান) কখনোই শিক্ষা নেবে না।
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার চরম হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে সক্ষম হব না এবং খুব সফলভাবে শুরু করা কাজটি সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে (শেষ করতে) বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আর অস্তিত্বশীল থাকবে না!
হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সাইট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবারের এই নতুন হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর আগে শুক্রবারও ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে দ্বিপক্ষীয় অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে, পরবর্তী যেকোনো আগ্রাসনের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে এবং এতে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশবার্তা/একে