পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বাজাউর এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় ধরনের স্থল ও বিমান অভিযানে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার।
গতকাল রোববার (২৮ জুন) রাতে এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়।পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযানের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুন) রাতে সিন্ধ প্রদেশের করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে তিন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হন। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগান সীমান্তসংলগ্ন জঙ্গি আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে পাকিস্তানি বাহিনী।
পাকিস্তান সরকারের চলমান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’-এর অংশ হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়।
পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাতের অভিযানে টিটিপির সহযোগী সংগঠন ‘জামাত-উল-আহরার’-এর শীর্ষ সারির মোস্ট ওয়ান্টেড কমান্ডার খান ফারোশ আকা জাবাল নিহত হয়েছেন। অভিযানের সময় সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের একাধিক ক্যাম্প ও বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ম্প্রতিক সময়ে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত রয়েছে।
ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুলের বর্তমান প্রশাসন এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের এই বড় ধরনের আন্তঃসীমান্ত সামরিক অভিযান দুই দেশের ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
দেশবার্তা/এসবি