জর্ডানের বিপক্ষে ৩–১ গোলে জয়ের পর গ্রুপ ‘জে’–তে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। একদিনের বিশ্রাম শেষে সোমবার থেকে আবার অনুশীলন শুরু করবে দলটি। তবে আগামী শুক্রবার রাউন্ড অব ৩২–এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একাদশ নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে এখন তিনটি বড় প্রশ্ন।
অনুশীলন সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগেই রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই বিভাগেই দ্বিধা রয়ে গেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সেন্টার ব্যাক পজিশন নিয়ে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুতে আঘাত পান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। বিশ্বকাপের আগেও একই হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন তিনি। জর্ডান ম্যাচে তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। সুখবর হলো, ফোলা ছাড়া তাঁর তেমন বড় চোট নেই। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি বুঝে নিতে চায় কোচিং স্টাফ।
রোমেরোর সুস্থতা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, ফোলাও কমেছে। সোমবার একটি ভালো লক্ষণ দেখা গেছে—প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। কোচিং স্টাফ যদি তাঁকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আবার বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে সেন্টার ব্যাকে জুটি বাঁধবেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি। লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে জর্ডান ম্যাচে দলের অধিনায়কত্বও করেছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় বড় প্রশ্নটি আক্রমণভাগ নিয়ে। মেসি একাদশে ফিরলে তাঁর সতীর্থ কে হবেন, সেটাই এখন মূল বিষয়। বিশ্বকাপের আগে স্কালোনির পরিকল্পনা ছিল, নকআউট পর্ব থেকে হুলিয়ান আলভারেজই হবেন মূল স্ট্রাইকার। কাতারের শেষ পর্বের মতো তাঁর এই ভূমিকা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।
তবে গোড়ালির চোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথম দুই ম্যাচে বিকল্প হিসেবে থাকা কর্দোবার এই খেলোয়াড় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে।
অন্যদিকে লাউতারো মার্তিনেজ সম্প্রতি পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন, যেটি তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। লাউতারোর চেয়ে আলভারেজের খেলার ধরন আলাদা হওয়ায় স্কালোনির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলে হুলিয়ানই খেলবেন। এখন কোচিং স্টাফ তাঁদের ভাবনা বদলায় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
তৃতীয় প্রশ্নটি লেফট ব্যাক পজিশন নিয়ে। তবে এই বিষয়ে কোচের মনে হয়তো আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নিকোলাস তালিয়াফিকোর মাংসপেশিতে চোট লাগার পর প্রথম দুই ম্যাচে শুরু করেন ফাকুন্দো মেদিনা। নিজের স্বাভাবিক পজিশন না হলেও বেশ ভালো খেলেছেন তিনি। অলিম্পিক লিওঁর এই খেলোয়াড় জর্ডান ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। তাই নকআউট পর্বের ম্যাচেও একাদশে তাঁকে ধরে রাখাটাই স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে