পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে প্রকৃত অর্থেই নতুন ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সেখানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে ৪টি থানা, ৬টি তদন্তকেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইন, ৩টি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে পূর্বাচলবাসীর মতে, এর পাশাপাশি সবার আগে উন্নতমানের হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ এবং আধুনিক শপিং মল ও দৈনন্দিন কাঁচাবাজারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা জরুরি।
পূর্বাচলবাসীরা বলছেন, জনমানুষের বসবাসের জন্য সবার আগে প্রয়োজন মৌলিক ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন। তারা থানা ও ফাঁড়ি স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পূর্বাচলের বাসিন্দা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দেশবার্তাকে বলেন, ‘পূর্বাচলে সবার আগে উন্নতমানের হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, আধুনিক শপিং মল ও দৈনন্দিন কাঁচাবাজারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করা উচিত। এগুলো নিশ্চিত হলে মানুষ নিজে থেকেই সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবে।’
তাসলিমা লিপি নামে অপর এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজউক কি তবে ইচ্ছাকৃতভাবেই পূর্বাচলের মূল অবকাঠামো উন্নয়নে ধীরগতির নীতি অবলম্বন করছে? বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোর (যেমন বসুন্ধরা) বাণিজ্যিক স্বার্থ বা ডেভেলপমেন্ট শেষ করার সুযোগ করে দিতেই কি পূর্বাচলকে এভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে?’
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প এভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য থমকে থাকতে পারে না। পূর্বাচলকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজউকের উচিত অবিলম্বে তাদের পরিকল্পনার অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণে জোর দেওয়া।’
স্থানীয়দের মতে, পূর্বাচলের পরিবেশ ও অবস্থান বসবাসের জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তুলনায় আরও উপযোগী। এ এলাকায় শব্দদূষণ, কোলাহল ও রিকশাজট নেই বললেই চলে। রাজধানীর মধ্যে বসবাসের জন্য এতটা শান্ত ও নীরব এলাকা খুব কমই রয়েছে।
ফলে এই আবাসিক এলাকাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ও আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেশুনেও এ প্রকল্পকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের মতে, রাজউক আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগ নিলেই পূর্বাচল আবাসিক এলাকা তার পরিকল্পিত জৌলুস ফিরে পাবে।
দেশবার্তা/আরএইচ