খুলনা জেলা পরিষদের সামাজিক, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রথম ধাপের আওতায় পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিকেলে কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বাকীর সভাপতিত্বে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। এ অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষা, ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশ পুনর্গঠনে তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের তুলনায় আরও দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।
জেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে জেলা পরিষদকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষ দেখেছে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে বলেন, “জেলা পরিষদের কোনো সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তি প্রকল্পের নামে অর্থ দাবি করলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, জিএম রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য বদরুদ্দোজা বাবলু, আব্দুল মালেক এবং জেলা যুবদলের সদস্যসচিব নাদিমুজ্জামান জনি।
এ ছাড়া পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ হাজার ৫০০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ এবং উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। পরে বিকেলে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজারটি বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ এবং উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।
এ সময় তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ