পিছিয়ে পড়লেই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না ইংল্যান্ড—বিশ্বকাপে ইংলিশদের প্রায় ছয় দশকের এই অপবাদ ঘুচিয়ে দিলেন হ্যারি কেইন। শুরুতে গোল হজম করে বিপাকে পড়লেও, রেকর্ড গোলদাতার জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি-লাইন্সরা। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেন্স স্টেডিয়ামে বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে শুরুতেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে শচেল বিম্বার ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে নেন সিপিঙ্গা। নকআউট পর্বে এটিই কঙ্গোর ইতিহাসের প্রথম গোল।
গোল খেয়ে খেই হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা কঙ্গোর গোলবারে শট নেয় ১৬টি, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি যেন পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দুটি হেড এবং মার্কাস রাশফোর্ডের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নস্যাৎ করেন তিনি। উল্টো কঙ্গোর উইসার একটি শট পোস্টে লাগলে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়া থেকে বেঁচে যায় ইংলিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে কঙ্গোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক এমপাসি হতাশ করছিলেন ইংলিশ শিবিরকে। ডাগআউটে কোচ টমাস টুখেলের চোখে-মুখে তখন স্পষ্ট উৎকণ্ঠা। অবশেষে ৭৫তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কেইন। অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রস থেকে চমৎকার হেডে দলকে সমতায় ফেরান বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বেলিংহ্যামের আক্রমণ প্রতিহত হওয়ার পর গর্ডনের পাস থেকে বল পান কেইন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে পোস্টের দিকে না তাকিয়েই বুলেটের গতিতে নেওয়া তার শট কঙ্গোর জাল কাঁপায়। এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপে কেইনের মোট গোল হলো ১৩টি, আর দেশের হয়ে ৮৪টি। একই সাথে জিওফ হার্স্টকে (৪ গোল) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৫ গোল) গোলদাতা এখন কেইন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কঙ্গো ফ্রি-কিক পেলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী সোমবার সকালে মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে টুখেলের শীর্ষরা।
দেশবার্তা/এসবি