কেপ ভার্দে নামে যে কোনো দেশ আছে, বিশ্বকাপের আগে হয়তো অনেকে জানতেনই না। জনসংখ্যা মাত্র ৬ লাখের কিছু ওপরে। সেই দলটিই বিশ্বকাপের মতো আসরে এলো, দেখলো, জয় করলো।
কেপ ভার্দের মতো একটি দেশ ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে, এটাই তো ছিল বড় বিস্ময়। সেই দলটি একের পর এক রূপকথার জন্ম দিলো। প্রথম বিশ্বকাপেই কাঁপিয়ে দিলো সাবেক তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।
শুরুটা হয়েছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপের সেরা দল স্পেনকে গোলশূন্য (০-০) রুখে দিয়ে। যারা এটাকে অঘটন ভাবছিলেন, তাদের টনক নড়ে পরের ম্যাচে যখন কেপ ভার্দে উরুগুয়ের মতো আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে।
শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে আবার ড্র (০-০)। কোনো হার না নিয়েই নকআউটে নাম লেখায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটি।
রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের সামনে প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, এবার কেপ ভার্দে সহজে হার মানবে।
কিন্তু এই দলটি যেন অন্য ধাচের! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও কাঁপিয়ে দিলো কেপ ভার্দে। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে এসে হার মানলো, ৩-২ ব্যবধানে।
এত কাছে এসে স্বপ্ন ভাঙার পর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন কেপ ভার্দের ফুুটবলাররা। কিন্তু এই পরাজয় তো লজ্জার নয়, এ যে গৌরবের!
মাত্র ৬ লাখ জনসংখ্যার একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসে এমন একটি বিশ্বকাপ স্বর্ণাক্ষরেই লিখা থাকবে। কেপ ভার্দের নতুন প্রজন্ম এমন একটি দলকে দেখে বড় হবে, যারা প্রথম বিশ্বকাপেই সাবেক তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল!
দেশবার্তা/এমআর