ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২১:১৩
চলমান বার্তা:
গরিবদের জন্য
বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৩৬  (ভিজিটর : )
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ (১০ শতাংশ) গরিব-মিসকিনদের কল্যাণ ও সরকারি প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাঁদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুব বিনয়ের সঙ্গে আমাদের বলেছেন- ‘মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলব আজকে। আপনারা আমার কথাটা রাখতেও পারেন, নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতি মাসে তাঁর বেতন থেকে ১০ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিনদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনো প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। 

আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন অ্যাকাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্মেন্টের অ্যাকাউন্টে। আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয়, প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক অ্যাপ্রোচে আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি এবং অত্যন্ত খুশি হয়েছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবায়।

তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে। কিন্তু এখন অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র ‘অপারেশন না করলে মা বা সন্তান বাঁচবে না’- এমন ভয় দেখিয়ে পরিবারগুলোকে সিজারিয়ান করতে বাধ্য করে। 

চিকিৎসকদের ওপর মানুষের ভরসা ধরে রাখতে চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের (ধাত্রী) সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থান নয়, বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়।

তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার একটি বড় অংশই থাকবেন মিডওয়াইফ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলটিমেটাম দিয়ে ঘোষণা করেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘লেবার রুম’ স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা বা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪০টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর একজন ধাত্রী রেজিষ্ট্রেশন পান এবং প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫৮০০ জন দক্ষ ধাত্রী তৈরি হন। তবে সুযোগের অভাবে তাঁদের সিংহভাগই ঝরে পড়েন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরে মাত্র ৫০০ জন ধাত্রী কাজ করার সুযোগ পান, বাকিরা সাধারণ নার্স হিসেবে কাজ করায় শিশু জন্মের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতার প্রমুখ।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।