আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন। এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ‘স্মার্ট ফরেস্ট্রি’-এর আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। সেখানে প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন এক নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হবে স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ। জিআইএস এবং রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা চারাগাছসমূহের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় ‘ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি গাছের টিকে থাকার হার ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা যাবে। দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল ঘন সৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
পরিবেশমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫ বছরে এই বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে। এর ফলে গ্রামীণ নারী ও যুবসমাজ নার্সারি ব্যবসা এবং গাছ রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা।
দেশবার্তা/একে