আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়ার ৫ দিনের মাথায় ফেরার ঘোষণা দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার নেন থমসন রয়টার্সের ভারত চ্যাপ্টারের পলিটিক্স এন্ড জেনারেল নিউজ এডিটর কৃষ্ণা এন দাস। মধ্যরাত পার হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত গড়ায় প্রায় এক ঘণ্টার এই বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকার। অনুবাদ করেছেন সালেহ বিপ্লব
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো আইনি বাধা নেই, গত ৫ জুলাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি এও বলেন, শেখ হাসিনার উচিত দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া সাজা এবং বিচারাধীন মামলাগুলো আইনিভাবে মোকাবিলা করা। চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্যের ৫ দিনের মাথায় সাড়া দিলেন দেশছাড়া এই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দীর্ঘ ফোনালাপে জানিয়েছেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে বছরশেষেই ফিরতে চান।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দল আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেত্রী শেখ হাসিনা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দলের জ্যেষ্ঠ সহকর্মীরা আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘতম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এবং অবশেষে অভূতপূর্ব ছাত্রগণভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া এই নেত্রী বলেন, তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে হাজির হবেন। এর মাধ্যমে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের আচরণ কেমন হয়, তা পরীক্ষা করা যাবে।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তাও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসেই, তবে আমি নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত মিশে আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ভারতের সাথে বাংলাদেশের টানাপোড়েনযুক্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারে, যা নয়াদিল্লি তাকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে অনেকটাই অবনতি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার ইতিপূর্বেও বারবার ভারতকে তাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে।
নির্বাসনে থাকার পর এই প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেওয়া শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার সময়সূচি নিয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সাথে আলোচনা করেননি। তিনি প্রথমবারের মতো নিজের ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা ও আদালতে আত্মসমর্পণের কথা প্রকাশ্যে আনলেন। তার সাথে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও আত্মসমর্পণ করবেন, যারা দেশে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে আছেন।
দিল্লিতে নিজের নির্বাসিত আবাসন থেকে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, আমাদের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি যে এবার আমি দেশে ফিরছি, এবং একদিন আপনাদের সবাইকে আসতে হবে। আমরা সবাই একসাথে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।
তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমি বিচারে বিশ্বাস করি। আমি মনে করি একবার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—এবং আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।
শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেন, তার ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো গোপন যোগাযোগ হয়নি, কারণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।
দেশবার্তা/এসবি/একে