রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আটকে পড়া অবশিষ্ট পর্যটকেরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে তারা হোটেল ও রিসোর্ট ত্যাগ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫০ জন পর্যটক সাজেক ছাড়েন। শুক্রবার সকালে আরও ৪২১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে ফিরে গেছেন।
এদিকে, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকা উজানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না করা খাবার এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী—চাল, ডাল, চিড়া ও চিনি বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, রাঙামাটির সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ি এলাকায় মাটি সরে যাওয়ায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের দুটি খুঁটি হেলে পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত পুরো রাঙামাটি শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ১০৪টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন।
এদিকে, প্রবল বর্ষণের সময় গত ৭ জুলাই বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মো. বদিউল আলম (৪৫) নিখোঁজ হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে ফারুয়া বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়েনছড়ি বিহার এলাকায় সড়কে জমে থাকা পানির কারণে মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে হেঁটে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। বদিউল আলম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, একই দিন রাঙামাটি সদরের মগবান ইউনিয়নে নদী পার হওয়ার সময় দলমনি চাকমা নামে এক ব্যক্তি ভেসে যান। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া, গত ৭ জুলাই বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশু আহত হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ