বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে লিওনেল স্কালোনির দলকে দেখা যাবে না চিরচেনা আকাশি-সাদা জার্সিতে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সিদ্ধান্তে এই ম্যাচে নীল-কালো রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ইতিহাস বলছে, ইংলিশদের বিপক্ষে এই জার্সি আর্জেন্টিনার জন্য ভীষণ ‘পয়া’।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) অবশ্য নিজেদের চেনা আকাশি-সাদা জার্সিতেই সেমিফাইনাল খেলার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ নাকচ করে দেওয়ায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাওয়ে জার্সি গায়ে জড়াতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি জয়ই এসেছিল এই বিকল্প জার্সিতে। যার প্রথমটি ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল। কার্লোস বিলার্দোর শিষ্যরা সেবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার অবিশ্বাস্য দুটি গোলের কারণে। যার একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং অন্যটি পাঁচ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।
ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের নীল জার্সিটি নিয়ে গল্পও কম নেই। ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জার্সিগুলো জোগাড় করেছিল ‘এএফএ’। এরপর তাড়াহুড়ো করে বসানো হয়েছিল দলের লোগো আর খেলোয়াড়দের জার্সি নম্বর। কালো শর্টসের সঙ্গে সেই নীল জার্সির কম্বিনেশন আজও আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম আবেগ।
১২ বছর পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও এই জার্সিতে ইংলিশদের স্তব্ধ করেছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে হাভিয়ের জানেত্তির দারুণ ফ্রি-কিক গোলের পর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে জয়োল্লাসে মাতে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। অতীতের এই দুই সুখস্মৃতি স্কালোনির দলের জন্য বাড়তি টনিক হিসেবে কাজ করতেই পারে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই পরাশক্তি।
দেশবার্তা/একে