ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ১৫ জুলাই ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২০:২৩
চলমান বার্তা:
৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কমেছে ৫৪ শতাংশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৪ আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ২০:১৬  (ভিজিটর : )

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা গত প্রায় পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির (ESHRE) বার্ষিক সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে গবেষকেরা জানান, গত পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

টেস্টোস্টেরন পুরুষের বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে প্রজননক্ষমতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া পরিবেশগত বিভিন্ন উপাদানও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে ব্যবহৃত এন্ডোক্রাইন-ব্যাহতকারী (Endocrine-disrupting) রাসায়নিক পদার্থ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন বলেন, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য একটি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তাঁর ভাষ্য, গত ৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশেরও বেশি হারে এই হরমোনের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। এটি আকস্মিক বা পরিসংখ্যানগত ত্রুটির ফল নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গবেষক দলটি এর আগে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায়ও উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছিল। সেই গবেষণায় দেখা যায়, গত চার দশকে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে কিছু বিতর্ক থাকলেও অনেক বিশেষজ্ঞ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেন, ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় গবেষণাটি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। তাঁর মতে, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং সময়ের সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকর পরিবেশগত রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।