ম্যাচ হারার পর স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ থাকে পরাজিত দলের। ম্যাচটি যদি হয় কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল, তবে বিষাদ যেন দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসে। এমনই এক বিষণ্ণ সময়ে কেউ উসকানিমূলক কিছু বললে রাগ হওয়াটা অমূলক নয়। তবে তার জেরে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িও কাম্য নয়।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ঠিক তা-ই করেছেন লিয়ান্দ্রো পারদেস। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ফাইনাল হারার পর স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন পারদেস। পরমুহূর্তেই স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন তিনি। গাভিকে মারতেও উদ্যত হতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডারকে।
পারদেসের এমন আচরণের আগে অবশ্য গাভি উসকানিমূলক কিছু একটা বলে হালকা ধাক্কা দিয়েছিলেন। তবে ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন বার্সেলোনার এই তরুণ মিডফিল্ডার, তা এখনও জানা যায়নি। পরে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়েরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যদিও অনভিপ্রেত এই ঘটনার জন্য মাঠ ছাড়ার আগে লাল কার্ড দেখতে হয়েছে পারদেসকে।
গাভি-পারদেসের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার এই ম্যাচেই অবশ্য দেখা গেছে সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য চিত্র। মাঠের একপাশে দেখা গেল লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাববিনিময়।
ফাইনাল হেরে হতাশায় মাঠের এক জায়গায় একাকী বসে ছিলেন মেসি। স্পেনের জয়ের উদযাপনের এক ফাঁকে দূর থেকে দৌড়ে এসে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে জড়িয়ে ধরেন ইয়ামাল। সান্ত্বনার হাত বাড়িয়ে দেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে। সঙ্গে দুজন কিছুটা সময় বাক্যবিনিময়ও করেন।
ইয়ামালের সেই আলিঙ্গন নিয়ে পরে কথা বলেছেন মেসি। বলেন, ‘সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। আর বলছিল আমি যেন না কাঁদি। ও আসলেই খুব দয়ালু আর নরম মনের একজন ছেলে।’
ম্যাচ শুরুর আগেও দুজনকে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। মুখোমুখি লড়াইয়ে এটাই তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হলেও বাস্তবে মেসি-ইয়ামালের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র ৫ মাস, ফুটবল সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও তাঁর হওয়ার কথা নয়।
বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে সেদিন ৫ মাসের শিশু ইয়ামালকে পরম স্নেহে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন ২০ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা মেসি। বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’-এর একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ছবি তোলার সূত্র ধরেই সেদিন ঘটেছিল সেই রূপকথার মতো মিলনমেলা।
দেশবার্তা/একে