জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
তিন মিনিটের এই ভিডিও বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে বলেন, রক্তস্নাত জুলাই-আগস্ট এক বছর পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্টদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গ্রেপ্তার, হত্যা ও গুমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলো আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। ছাত্রজনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে বাংলাদেশকে গড়বার। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জানাচ্ছি আন্তরিক শ্রদ্ধা, আহতদের সমবেদনা। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন মনে রাখবে।
তিনি বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার যারা হয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এসব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন, নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের সামনে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, তা আমাদের দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে যে কোন মূল্যে।
বীরের এই রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা যেনো বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে শহীদ জিয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করি। বাস্তবায়িত করি কোটি মানুষের নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্নকে।