কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহিম নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।
এরপর রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইজা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। আইজা কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে। তারও আগে ওই দিন ভোর ৬টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আট মাস বয়সী শিশু আফরান। সে সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ এতই বেশি যে অনেক শিশুকে সাধারণ ওয়ার্ডেও রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় বর্তমানে ৩০০ এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৫টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে ‘আইসোলেশন কর্নার’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং টিকা বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই দ্রুত বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
দেশবার্তা/একে