বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নাট্যভাবনার মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কে উদযাপিত হলো ‘বিশ্ব নাট্য দিবস ২০২৬’। গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস অ্যান্ড লার্নিং (JCAL) মিলনায়তনে প্রখ্যাত নাট্যদল ‘ঢাকা ড্রামা’র আয়োজনে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবীণ অভিনেত্রী রেখা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও নির্দেশক মুজিব বিন হক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং ঢাকা ড্রামা দলের সদস্যবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রেখা আহমেদ দর্শকদের গুরুত্বারোপ করে বলেন, দর্শক না থাকলে নাটক প্রাণ পায় না; আপনাদের উপস্থিতিই আমাদের প্রেরণা।
মুজিব বিন হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানান দেওয়ার জন্য নাটকের কোনো বিকল্প নেই।
শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় নাটকের শিক্ষামূলক দিকটি তুলে ধরে বলেন, নাটক কেবল বিনোদন নয়, এটি জীবন ও সমাজের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
ঢাকা ড্রামার উপদেষ্টা ডা. প্রতাপ চন্দ্র দাস বিগত বছরগুলোতে এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্ববোধ করেন। অনুষ্ঠানে আইটিআই (ITI) সভাপতি উইলেম ডেফোর প্রেরিত শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করেন দলের সদস্য রীপন শওকত রহমান।
সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন এবং এস এম সোলায়মানকে স্মরণ করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ‘কৃষ্টি’র সদস্যবৃন্দ। ড. জীবন বিশ্বাসের সঙ্গীতের পর কৃষ্টির প্রধান সীতেশ ধরের হাতে ঢাকা ড্রামার পক্ষ থেকে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন ডা. প্রতাপ চন্দ্র দাস।
আলোচনা পর্বে গার্গী মুখার্জী তরুণ প্রজন্মের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, শায়ক মিশা চৌধুরী তার ‘পাবলিক অবসিনিটিজ’ নাটকের মাধ্যমে পুলিৎজার পুরস্কারের ফাইনালিস্ট হওয়া আমাদের জন্য পরম অনুপ্রেরণার।
অন্যদিকে, শামসুল আলম বকুল থিয়েটারকে শান্তির বাহক হিসেবে অভিহিত করেন এবং মানসম্মত নাটক নির্মাণের আহ্বান জানান।
খাইরুল ইসলাম পাখী প্রবাসের মাটিতে প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নাট্যচর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানান।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম সেনাপতি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মাযহার আহমেদ থিয়েটারের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দর্শকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল চমৎকার সব নাট্য পরিবেশনা। শাহাদুজ্জামানের গল্প ‘উড্ডীন’ অবলম্বনে হীরা চৌধুরীর নাট্যরূপ, নির্দেশনা ও অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিরিন বকুলের নির্দেশনায় শিল্পাঙ্গন পরিবেশন করে সৌমিত্র বসুর নাটক ‘নতুন বৌঠান’, যাতে অভিনয় করেন নজরুল ইসলাম ও শিরিন বকুল।
এক্সাইল কালেক্টিভ মঞ্চস্থ করে ইয়েভগেনী শোওয়ার্টস-এর নাটক ‘ড্রাগন’ অবলম্বনে এস এম সোলায়মান রূপান্তরিত ‘রাক্ষস খোক্ষস’-এর অংশবিশেষ। আনিকা মাহিনের নির্দেশনায় এতে অভিনয় করেন রোকেয়া রফিক বেবী ও মিতালী দাস।
মিথুন আহমেদ রচিত ও শামসুল আলম বকুল নির্দেশিত নাটক ‘অর্ধনারীশ্বর’-এ একক অভিনয় করেন তাহমিনা মোস্তফা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পরিবেশনায় ছিল আয়োজক সংগঠন ‘ঢাকা ড্রামা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকের অংশবিশেষ ‘মনে পড়ে, বিশু নন্দিনী’ শিরোনামে মঞ্চে নিয়ে আসেন গার্গী মুখোপাধ্যায় এবং গোলাম সারওয়ার হারুন। তাদের গান ও অভিনয় দর্শকদের আবিষ্ট করে রাখে।
প্রতিমা দাস সুমির সাবলীল সঞ্চালনায় এবং বাবর খাদেমীর আলোক পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত। কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই জনাকীর্ণ মিলনায়তনে দর্শকরা একটি শৈল্পিক সন্ধ্যা উপভোগের তৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফেরেন।
দেশবার্তা/এসবি/একে