ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় উপজেলায় কৃষি কার্যক্রমে চরম প্রভাব পড়েছে। বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং সচল পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় প্রান্তিক কৃষকেরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৬ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমির মধ্যে অধিকাংশ জমিতে বর্তমানে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপনের মৌসুম চলছে। কিন্তু সেচপাম্প ও ট্রাক্টর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক জমি এখনো অনাবাদি রয়ে গেছে। ইতোমধ্যে যেসব জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে, সেগুলোও সেচের অভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন পেট্রোল পাম্পগুলোর সরবরাহ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় একটি চক্র সরকারের এ উদ্যোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত যানবাহন তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে বিভিন্ন পাত্রে করে পেট্রোল কালোবাজারিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোটরসাইকেল চালকেরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক আবুল বাশার, সোহেল রানা ও সুজন শিকদারসহ অনেকে জানান, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা তেল পাই না। অথচ পাম্প থেকে প্রকাশ্যে টব ভর্তি তেল কালোবাজারিদের কাছে দেওয়া হচ্ছে। পরে সেই তেল প্রতি লিটার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পাম্প পরিচালক সুমন জানান, পেট্রোল বোতল বা টবে সরবরাহের কোনো নির্দেশনা নেই। এ ধরনের কাজে কোনো কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধুখালী থানা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আরা জাহান জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ