বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ত কাজের জন্য প্রণীত শিডিউল অব রেইটস (SOR) দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ না হওয়ায় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ রেটের কারণে পূর্ত কাজ বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বলছেন, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি না থাকায় কাজ বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্মাণ সামগ্রীর দাম, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও রেলের পূর্ত কাজের রেট পুরনো অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ঠিকাদাররা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এতে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কন্ট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরসিএ)। সংগঠনটি বলেছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শুধু ঠিকাদাররাই নয়, রেলওয়ের চলমান কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
গত বুধবার (৭ এপ্রিল) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহ আলমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মৌখিকভাবে বারবার বলার পরেও “শিডিউল অব রেইটস” হালনাগাদের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ রেলওয়ের শিডিউল অব রেইটস ২০২১ সালের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি, অথচ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল প্রকার নির্মাণ সামগ্রীর বাজারমূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে এবং সরকারি রেটেও শ্রমিকের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এমতাবস্থায় ২০২১ সালের SOR অনুযায়ী কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাস্তবতার নিরিখে শিডিউল অব রেইটস হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি। জরুরি ভিত্তিতে এটি হালনাগাদ করে রেলের চলমান কাজের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে তাদের শিডিউল অব রেইটস হালনাগাদ করলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্ষেত্রে তা সময়মতো করা হচ্ছে না। এতে একই ধরনের কাজেও রেটের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, যা ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পুরনো রেটে কাজ করা সম্ভব নয়। এতে যেমন কাজের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কন্ট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত SOR হালনাগাদ না করলে রেলওয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ধীরগতির হয়ে পড়বে। এতে সরকারের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক শিডিউল অব রেইটস প্রণয়ন করা হলে রেলওয়ের পূর্ত কাজের গতি ও মান—উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। চিঠির অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ