নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘর) প্রধান গেট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপরদী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টির পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুতই কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনারগাঁও জাদুঘরের ১নং গেট থেকে ৬১নং তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইছাপাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদের সামনে অংশে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদাপানিতে পরিণত হয়েছে, ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি অফিস, ভূমি অফিস, থানা, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
সোনারগাঁ জি.আর. ইনস্টিটিউশনের এসএসসি পরীক্ষার্থী শুকর্ণা আক্তার মম বলেন, “প্রতিদিন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে এই ভাঙা সড়ক দিয়ে স্কুলে যেতে হয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় পরীক্ষার সময়ও একই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, “সোনারগাঁও জাদুঘর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এর প্রধান সড়কের এমন বেহাল অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।”
অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে যাত্রী পেলেও এই পথে যাতায়াত করতে চাই না।”
সোনারগাঁও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী ও সমাজ সেবক শাহাদাত হোসেন লিটু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে সড়টি দ্রুত সংস্কার করা হয়।
ইছাপাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদের সহ-সভাপতি মো. সেলিম হোসাইন জানান, মসজিদের সামনে কাদা ও গর্তের কারণে মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। এটি ঠিক হলে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের চলাচল সহজ হবে।”
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আসিফ আল জিনাত দৈনিক দেশবার্তাকে বলেন, “সড়কটি আমরা পরিদর্শন করেছি, এটি সত্যিই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ