সমন্বিত ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সই হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোতে সমন্বিত, পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো। ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার, বড় পরিসরের আয়োজন নির্বিঘ্ন করা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাই এ চুক্তির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিসিবির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এই সমঝোতার মাধ্যমে আরও সুসংগঠিত কাঠামো পেল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক ও দক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখাবেন।
বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ও সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, ফতুল্লা, পূর্বাচল, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই সাতটি স্টেডিয়ামে মোট ২৭২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর আগে ঢাকার মিরপুর, কক্সবাজার ও সিলেটের তিনটি স্টেডিয়ামে ১০৭ জন আনসার সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব সিকিউরিটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামিম ফরহাদ (অব.)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই সমঝোতা স্মারককে দেশের ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে, বিদেশি দল ও দর্শনার্থীদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও নিরাপদ ও বিশ্বস্ত গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দেশবার্তা/আরএইচ