পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে গরু-ছাগলের সরবরাহ বাড়াতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি পশু হাটে এলেও এখন পর্যন্ত বেচাকেনা তেমন জমে ওঠেনি। ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রেতাদের অনেককেই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকার হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় নানা আকারের গরু ও ছাগলে হাট ভরে উঠছে। তবে অধিকাংশ ক্রেতাই এখনো ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন। ফলে বিক্রেতাদের চাওয়া দামের সঙ্গে ক্রেতাদের প্রস্তাবিত দামের বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, এবার পশু লালন-পালন, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা তুলনামূলক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। তবে ক্রেতারা সেই দাম মেনে নিতে চাইছেন না।
কিশোরগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মফিজ মিয়া বলেন, হাটে পশু অনেক এসেছে, কিন্তু ক্রেতা কম। সবাই মনে হয় শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। এখনো বিক্রি আশানুরূপ নয়।
অন্যদিকে নগরের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম বলছেন। তাই এখনই কিনছি না। একদিন আগে দাম কমলে কিনব।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনাও তত বাড়বে। বিশেষ করে শেষ দুই দিনে হাটগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে।
এবার চট্টগ্রাম নগরে মোট ১১টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সাগরিকা ও বিবিরহাট- এই দুটি স্থায়ী হাট। এছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের হাটটিও স্থায়ী। বাকি আটটি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে কয়েকটি দরপত্রের মাধ্যমে এবং কয়েকটি দরপত্র ছাড়াই ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে কুষ্টিয়া, মাগুরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু আসতে শুরু করে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা কম। আগের বছরগুলোতে শত শত ট্রাক হাটের সামনে অপেক্ষমাণ থাকলেও এবার সে চিত্র তেমন দেখা যায়নি।
বিবিরহাট গরুর বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি রিয়াদুল ইসলাম জানান, এখানে ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের গরু এসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুরো বাজার সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নিচে পাকা ব্যবস্থা এবং উপরে ত্রিপল দিয়ে আচ্ছাদন করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের জন্য কাউন্টার ও এটিএম বুথও স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার হাসিল সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করলেও আমরা নিচ্ছি ৫ শতাংশ। কেউ কম দিতে চাইলে সেখানেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে এবার বাজেট কমিয়ে কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আবার কেউ কেউ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে সিদ্ধান্ত নিতে চান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এবার জেলায় কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে।
বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামে আট হাজারের বেশি খামারি গবাদিপশু পালন করছেন।
চলতি বছর জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট প্রাপ্যতা রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১১৩টি এবং ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশু ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮টি। বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু। চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি স্থানীয়ভাবেই পূরণ হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টির ঘাটতি রয়েছে। তবে বাইরের জেলা থেকে পশু আসায় কোনো সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রতিনিধি/একে