ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৩ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ২২:০০
চলমান বার্তা:
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যশোরে সচেতনতামূলক র‌্যালি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১৬:০০  (ভিজিটর : )

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) সকালে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

র‌্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বাড়ি, অফিস ও প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা র‌্যালিতে অংশ নেন।

র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা, এর বিস্তারের কারণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত হলে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করছেন সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম ও খতিবরা। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জানান, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নজরদারি কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম, বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট, প্রচারপত্র এবং অন্যান্য প্রচারণামূলক উপকরণ মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি জনসাধারণের সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে বড় ও সুস্পষ্ট অক্ষরে প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেমন—নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত স্থাপনা, ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধ এলাকা, খোলা পাত্র এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহার, সংরক্ষণ কিংবা বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডাব বিক্রির ফলে সৃষ্ট বর্জ্য, বিশেষ করে ডাবের খোসা, নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে অপসারণ নিশ্চিত করতে পৌরসভাকে নজরদারি, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, জমে থাকা ডাবের খোসায় পানি জমে এডিস মশার প্রজনন ঘটতে পারে।

র‌্যালি শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা সপ্তাহে অন্তত একদিন ১০ মিনিট সময় নিয়ে নিজ বাসা ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকার করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আগাম সতর্কতামূলক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুমুক্ত যশোর গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।