ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ৯ জুন ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২২:২১
চলমান বার্তা:
শিশু রা‌মিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫৮ আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ১৮:৫০  (ভিজিটর : )

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় দেওয়া হলো।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আদালত এলাকায় আগে থেকেই নিয়োজিত প্রায় ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আদালতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। আমরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কা দেখছি না। তারপরও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ মে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় মামলাটি করা হয়।

তদন্ত চলাকালে ডিএনএ প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে শিশুটির বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান। অপর আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত এবং মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

রায়ের আগে শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের বিচার চান না, এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে হবে না।

মামলাটির তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক সব মিলিয়ে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার, বেশি ভারতের সঙ্গে
পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার, বেশি ভারতের সঙ্গে
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর, তারা তদন্ত করে না
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর, তারা তদন্ত করে না
হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
পুশ ইন ঠেকাতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
পুশ ইন ঠেকাতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg