দেশের স্কোয়াশ অঙ্গনে আবারও পর্দা উঠছে জাতীয় পর্যায়ের বড় আয়োজনের। আগামী ১০ জুন থেকে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে ‘টুরাগ অ্যাক্টিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের আয়োজনে এবং উর্মী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘টুরাগ অ্যাক্টিভ’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে বসছে এবারের আসর।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মু. হাসান উজ জামান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরুজ আহম্মেদ, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল জুবাইদুর রহমান এবং টুরাগ অ্যাক্টিভের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মু. হাসান উজ জামান জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্লাবের খেলোয়াড়েরা অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, সিলেট, কুমিল্লাসহ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) এবং ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানে বাছাইপর্বের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতা মোট নয়টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে উন্মুক্ত পুরুষ ও মহিলা বিভাগ, সৌখিন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিভাগ এবং অনূর্ধ্ব-১১, অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের পৃথক বিভাগ। প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো রাউন্ড-রবিন লীগ পদ্ধতিতে রাজধানীর তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
ভেন্যুগুলো হলো- আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্স, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি এবং আর্মি অফিসার্স মেস। এই আসরে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরাও নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম জানান, এবারের আসরের বিজয়ীদের জন্য থাকছে প্রাইজমানি, মেডেল ও বিশেষ পুরস্কার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়াপ্রেমীরা যাতে ঘরে বসেই খেলা উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচগুলো সরাসরি প্রচার ও সম্প্রচারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১০ জুন আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা উঠবে এই প্রতিযোগিতার। এরপর চার দিনব্যাপী লড়াই শেষে আগামী ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল, পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এবারের আয়োজন দেশের স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই খেলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোয়াশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশবার্তা/একে