বিশ্বকাপের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় বড় পরাশক্তিরা। তবে উপমহাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ ও উন্মাদনা বরাবরের মতোই ব্রাজিল ও আর্জেন্টানাকে ঘিরে। টুর্নামেন্টে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল যতদিন টিকে থাকবে, ফুটবলবিশ্বের উত্তেজনাও থাকবে ততটাই তুঙ্গে। আর ঘটনাক্রমে যদি বিশ্বমঞ্চে দুই দলের দেখা হয়ে যায়, তবে সেটি যে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এবার মাঠের লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্টের মধ্যে আগে নামছে সেলেসাওরা। রোববার ভোর ৪টায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। অন্যদিকে আলবিসেলেস্তেরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৭ জুন, বুধবার সকাল ৭টায়; যেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া।
ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- এই বিশ্বকাপে কি দেখা হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার? সমীকরণ বলছে, সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে তা নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে দল দুটির অবস্থানের ওপর।
এবার লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা পড়েছে তুলনামূলক সহজ ‘জে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে ‘সি’ গ্রুপে লড়তে হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিরুদ্ধে।
যদি দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে এবং সব বাধা টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালে দেখা হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। আবার দুই দলই যদি রানার্সআপ বা গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে যায়, তাহলেও শেষ চারের লড়াইয়েই মুখোমুখি হবে তারা।
তবে হিসাবটা বদলে যাবে যদি একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর অন্য দলটি রানার্সআপ হয়। তেমনটা ঘটলে মেগা ফাইনালে পৌঁছানোর আগে দুই দলের দেখা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর দল দুটি যদি তৃতীয় দল হিসেবে কোনোমতে পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে, তবে কোন পর্যায়ে তাদের লড়াই হবে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন।
এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ব্রাজিল সেমিফাইনালে জার্মানির বাধা পার হতে পারলে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারত, কিন্তু সেবার তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। যেখানে জয়ের পাল্লাটা কিছুটা ভারী ব্রাজিলের দিকে। দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে, যেখানে ব্রাজিল ২-১ গোলে জিতেছিল। এরপর ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার মাটিতে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপেও আধিপত্য বজায় রেখে ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয় ব্রাজিল।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে, যা আজো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয়। সেবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরি পাস থেকে ক্লাউদিও কানিজিয়ার সেই ঐতিহাসিক গোলে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় ব্রাজিলের জয় দুটি, আর্জেন্টিনার একটি এবং বাকি ম্যাচটি ড্র হয়। এবার সেই পরিসংখ্যানে নতুন কোনো অধ্যায় যোগ হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেশবার্তা/একে