বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে ১২০টিরও বেশি গোপন বায়োল্যাব (জীবাণু গবেষণাগার) প্রতিষ্ঠায় অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন কিছু অত্যন্ত গোপনীয় নথি প্রকাশ করে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন দেশটির সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, শুধু ইউক্রেনেই মার্কিন অর্থায়নে এ ধরনের ৪০টিরও বেশি ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে।
তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো এই কর্মসূচির প্রকৃত পরিধি এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সত্য তথ্য জনগণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আড়াল করে রেখেছিল।
মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের আওতাধীন অনেক গবেষণাগারে অ্যানথ্রাক্স, ইবোলা, মার্স, সার্স এবং প্লেগের মতো মারাত্মক ও বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা চালানো হতো। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সেখানে তথাকথিত ‘গেইন অব ফাংশন’ গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে জীবাণুর জৈবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে সেটির সংক্রমণ ও ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই তথ্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (ওডিএনআই) জানিয়েছে, এসব ল্যাবে সংরক্ষিত জীবাণু এবং চলমান গবেষণার প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সাথে যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা বন্ধের চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
নথির তথ্য মতে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নির্মিত কিংবা পরিচালিত ৪০টিরও বেশি ল্যাবের মধ্যে বেশ কয়েকটি ল্যাব সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জৈব অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জীবাণু নিয়ে কাজ করত বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার তালিকায় ইউক্রেনের ‘ইনস্টিটিউট অব এক্সপেরিমেন্টাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ভেটেরিনারি মেডিসিন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বিশেষভাবে উল্ল্যেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, এই সংস্থায় অত্যন্ত বিপজ্জনক জীবাণু সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেখানে ভাইরোলজি, ভেটেরিনারি মেডিসিন ও টক্সিকোলজি নিয়ে সন্দেহজনক গবেষণা চালানো হতো।
সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক গ্যাবার্ড আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অ্যান্থোনি ফাউসি এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসব বিতর্কিত বায়োল্যাবের অস্তিত্ব সম্পর্কে মার্কিন জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওডিএনআই জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন অর্থায়নের জীবাণু গবেষণাগারগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ, কিছু স্থাপনায় চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে মারাত্মক নৈতিক, আর্থিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে এই নথিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও মূল্যায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও পাল্টা দাবিও রয়েছে।
দেশবার্তা/একে