শরীয়তপুরে মাদক ব্যবসা ও ‘হানিট্র্যাপে’ (প্রেমের ফাঁদ) জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে পিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওই নারীর নাম সুলতানা আক্তার মলি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুলতানা আক্তার মলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তাকে এর আগে একাধিকবার এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো পাত্তাই দেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মলি ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় ফেরেন। তিনি বাস থেকে নামার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে। এরপর তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতানা আক্তার মলি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের অপরাধ বা ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে জড়িত নই। পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ফোর্স পাঠিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘ওই নারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অপরাধী হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্যাতনের ঘটনাটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেশবার্তা/একে