প্রেমিকাকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের পর বিয়ে না করার টালবাহানা থেকে বাঁচতেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
ইতিমধ্যে জিসানের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। ওই মামলায় জিসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলায় ভুক্তভোগী তরুণী মোট চারজনকে আসামি করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন- ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান (২৮), তার চাচাতো ভাই সজিব এবং ভুক্তভোগী নারীর কাছে গর্ভপাতের ওষুধ বিক্রি করা সেই দোকানদার।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত ১১ জুন রাতে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহমেদ দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন জিসান।
পুলিশ সুপার মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আরও বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ভ্রূণ নষ্ট করতে জিসান তাকে চাপ দেন এবং রাজি না হলে হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তরুণী বাধ্য হলে পরিচিত একটি ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। ওষুধ সেবনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অভিযুক্ত জিসান আরও ওষুধের ব্যবস্থা করেন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি জানান। কিন্তু ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে তার আগের দিন ১১ জুন সন্ধ্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের জিডি করান। তদন্ত চলাকালে লাকসাম থানা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। এক নারীকে ধর্ষণ, প্রতারণা ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ওই শিবির নেতা বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তারপরও চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে রেখেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
দেশবার্তা/একে