নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ কি বাতিল হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টের মন্তব্য ঘরে (কমেন্ট সেকশন) হান্নান মাসউদের নির্বাচনী হলফনামার বেশ কিছু অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্যও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। ভবিষ্যতে ব্যবসাবাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে- এমন ভাবনা থেকে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে টকশোতে জানিয়েছেন। অথচ তিনি নিজেই আবার দাবি করেছেন, তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, এর অর্থ কি এই দাঁড়ায় না যে হলফনামায় তার দেওয়া তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা?
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনি বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও নির্বাচন কমিশনের তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। গত বছরের ১১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্তে সত্যতা মিললে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং সংসদ সদস্য (এমপি) পদ চলে যাবে। এই সুনির্দিষ্ট বিধানটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সন্নিবেশ করা হয়েছে।
হান্নান মাসউদের ‘সততার’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না! একজন এমপি এতো গরিব, এত সৎ! আহারে। হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?
রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে তিনি যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, এমপির হলফনামা বিশ্লেষণ করলেই তার উত্তর পাওয়া যায়। হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়টি যেখানে খোদ এমপি নিজেই স্বীকার করেছেন, সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
দেশবার্তা/একে