ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই কারণেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের সমঝোতা ঘোষণার পর, রোববার (১৪ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
২৮ মিনিটের ওই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চূড়ান্ত চুক্তিটি প্রায় ভেঙে যেতে বসেছিল। নেতানিয়াহুকে একজন ‘খুবই কঠিন মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,
‘সত্যি কথা বলতে, এ কারণে আমাদের প্রতি তাঁর (নেতানিয়াহু) অনেক বেশি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না।’
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি বা সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেন, এর আগে ইরানের ওপর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলাই তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে এবং সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা (ইরান) আর তৃতীয় কোনো হামলা চায়নি। তারা মূলত বেঁচে থাকতে চায়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর তাঁদের চালানো আগের সামরিক হামলাগুলোই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে এবং এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে এই চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত না করায় নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে বেশ উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশবার্তা/একে