বিশ্বকাপ মানেই এক নিরন্তর ছুটে চলা। কখনও ম্যাচ, আবার কখনও ফিফার সংবাদ সম্মেলন, কখনোবা আয়োজকদের কোনো অনুষ্ঠান। এসব কাভারে সাংবাদিকদের সব সময় ধারাবাহিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে যেতে হয়।
সাধারণত বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশগুলো সাংবাদিক ও আগত সমর্থকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ফিফা ব্যাজধারীদের জন্য লোকাল ট্রান্সপোর্ট তো বটেই, আন্তঃশহর ট্রেনও ছিল একদম ফ্রি। এমনকি কাতারের দোহাতেও সকল পরিবহনে যাতায়াত হতো বিনামূল্যে। তবে বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর নিউইয়র্কে অবশ্য এবার তেমন বিশেষ কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
নিউইয়র্ক শহরে মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের ‘অমনি’ কার্ড করতে হয়। এই অমনি কার্ডের দাম এক ডলার। কার্ডটি সংগ্রহ করার পর যে যার প্রয়োজনমতো রিচার্জ করে নেন। এখানে অমনি কার্ড একবার পাঞ্চ করলেই কেটে নেওয়া হয় তিন ডলার। তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে এখানে কোনো কম-বেশি নেই। কেউ যদি পরের স্টপেজেই নেমে যান, তার জন্যও ভাড়া তিন ডলার। আবার কেউ যদি অনেক দূরত্বে ২০ স্টপেজ পর কিংবা এক ট্রেন বদলে আরেক ট্রেনে গিয়ে অনেক বেশি দূরত্ব পার হন, তাকেও সমান তিন ডলারই গুনতে হচ্ছে।
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেরই বসবাস জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায়। এর মধ্যে জ্যাকসন হাইটসের মেট্রো স্টেশনের নাম রুজভেল্ট এভিনিউ। কয়েক মিনিট পরপরই বেশ দ্রুতগতিতে আসা এই মেট্রোতে চড়েই নিউইয়র্কের অধিবাসীরা প্রতিদিন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন।
শহরের এই মেট্রো সার্ভিস খানিকটা স্বস্তির হলেও বাসের জন্য অপেক্ষার সময়টা এখানে কিছুটা দীর্ঘ। বিশেষ করে নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি স্টেডিয়ামে যাওয়ার লক্ষ্যে বাস অথরিটি টার্মিনালে যেতে হয় মেট্রোরেলে চড়ে। সেখানে গিয়ে ভাগ্য খুব সুপ্রসন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গেই নিউজার্সির বাস পাওয়া যায়। অন্যথায় যাত্রীদের কমপক্ষে আধ থেকে এক ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি এই বাসের ওয়ান ওয়ে ট্রিপের জন্য ব্যয় করতে হয় পাঁচ ডলার ত্রিশ সেন্ট।
সাধারণত বিশ্বকাপ ও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত মিডিয়া শাটলের ব্যবস্থা থাকে, যাতে সাংবাদিকরা হোটেল থেকে স্টেডিয়াম বা প্র্যাকটিস ভেন্যু কিংবা স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন। তবে নিউইয়র্কে এই সুবিধা প্রদান করা হয়েছে শুধু ম্যাচের দিন।
ম্যানহাটনের নির্দিষ্ট হোটেল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু বাস সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে নিয়ে আসে, আবার খেলা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর পৌঁছে দেয় ম্যানহাটনের হোটেলে। ম্যাচের দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে সমর্থকদের মতো সাংবাদিকদেরও কখনও বাসে, আবার কখনও ট্রেনে এক স্টপেজ নেমেই তিন ডলার করে ব্যয় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে