ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর ও অবর্ণনীয় এক গল্প রচিত হলো সিয়াটলে। বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন একটি কীর্তি গড়ল বেলজিয়াম। ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে সেনেগালকে কান্নায় ভাসিয়ে শেষ ষোলোতে পা দেয় রেড ডেভিলরা।
ম্যাচে ৫১ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম। সেনেগালের হয়ে গোল করেন হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সার। এরপর ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়েই ছিল বেলজিয়াম।
ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিট বাকি থাকতে যখন মনে হচ্ছিল বেলজিয়াম হারের মুখে, তখনই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইউরোপিয়ান দলটি। ৮৬–৮৯—এই তিন মিনিটে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। প্রথমে গোল করেন রোমেলু লুকাকু এবং সমতাসূচক দ্বিতীয় গোলটি করেন ইউরি টিলেমান্স। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচটি ছিল সমতায়। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল টাইব্রেকারেই হয়তো নির্ধারিত হতে যাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু এরপর আবার চমক। ম্যাচের একেবারের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম। বক্সের ভেতর বেলজিয়ান তারকা ইউরি টিলেমান্স ফাউলের শিকার হওয়ায় এই পেনাল্টি পায় তারা।
ভিএআর যাচাই ও মনিটরে দেখার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হওয়ার সুযোগ আছে। তবে পেনাল্টিতে কোনো ভুল করেননি টিলেমান্স। নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন ৩–২ ব্যবধানে। এরপর ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগ পায়নি সেনেগাল। রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষ পর্যন্ত জয় হয় বেলজিয়ামের। এর মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য গল্প লিখে বেলজিয়াম। এম/আর