অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে নিয়মিত মত প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি জুলাই মাসকে ঘিরে দেওয়া তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি আরেকটি পোস্ট করেন। সেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ধারণ করা বলে উল্লেখ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে সমালোচকদের উদ্দেশে কটাক্ষ করেন।
পোস্টে শাওন লেখেন, যাঁরা ৭৮ বছর বয়সী এক নারীর অন্তর্বাস প্রদর্শন করে উল্লাস কিংবা দেয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি দেখে নীরব ছিলেন বা তা সমর্থন করেছিলেন, তাঁদেরই এখন একটি ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার নিয়ে শালীনতার প্রশ্ন তোলাকে তিনি ভণ্ডামি বলে মনে করেন।
এর আগে বুধবার তিনি ‘#জুলাইCDI’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, গত এক বছর ধরে তিনি ফেসবুকে ‘#জুলাইCDI’ শব্দটি দেখে আসছেন। প্রথমে এটি শুধুমাত্র জুলাই মাসের একটি ট্রেন্ড বলে মনে হলেও পরে তিনি লক্ষ্য করেন, বছরের বিভিন্ন সময়েও অনেকেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন।
তিনি লেখেন, ‘প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম #জুলাইCDI কোনো একটা ট্রেন্ড। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই হয়তো তারা #জুলাইCDI লেখে। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখলাম, সারাবছরই ফেসবুকে বেশিরভাগ মানুষ লিখছে #জুলাইCDI। তখন বুঝতে পারলাম, #জুলাইCDI শুধু জুলাই মাসে না, যেকোনো সময় #জুলাইCDI লেখা যায়।’
হ্যাশট্যাগটির বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে শাওন আরও লেখেন, ‘মন খারাপ থাকলে যেমন আস্তে করে লেখা যায় #জুলাইCDI, তেমনি মন খুব ভালো থাকলেও হো হো করে হাসতে হাসতে #জুলাইCDI লেখা যায়। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডার গল্পে যেমন লেখা যায় #জুলাইCDI, তেমনি কারও ওপর ভীষণ রেগে গেলেও #জুলাইCDI লেখা যায়। আবার মনের অবস্থা ভালো না মন্দ, আপনি বুঝতে পারছেন না, তখনও আপনি #জুলাইCDI লিখতে পারেন।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা, এতোকিছু ভেবে কাজ নেই। আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI…।’
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে এর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা দেননি শাওন।