ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  রোববার | ৫ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ২১:৪৪
চলমান বার্তা:
ভারতের সঙ্গে জাপানের ১২০ চুক্তি সই
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১৩:১৮  (ভিজিটর : )
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: এএফপি

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: এএফপি

বৈঠকে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে 'ছোট বোন' বলে সম্বোধন করেছেন। জবাবে তাকাইচি মোদিকে নিজের 'বড় ভাই' বলে উল্লেখ করেন। দুই নেতার উপস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১২০টি চুক্তি সই হয়েছে।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ভারতে পৌঁছান তাকাইচি। সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ভারত-জাপানের ১৬তম বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে দুই নেতা জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রশংসা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, আলোচনার সময় তাকাইচি জানান, তিনি আবেকে নিজের 'বড় ভাই' মনে করতেন। মোদির সঙ্গে আবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এখন তিনিও মোদিকে 'বড় ভাই' হিসেবে দেখেন।


তাকাইচি বলেন, "আমাকে একটু আগে 'সুন্দর ছোট বোন' বলা হয়েছে। আগের আলোচনায় আমরা ভাই-বোনের মতো একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।"

বৈঠক শেষে দুই নেতা চারটি যৌথ ঘোষণা দেন। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে প্রথম যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তিও রয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।

তাকাইচি জানান, জাপান ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ১২০টি ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।

তবে গত বছর মোদির জাপান সফরের সময় আগামী কয়েক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, এবার তা বাস্তবায়নের ঘোষণা আসেনি।

বৈঠক শেষে তাকাইচি বলেন, "জাপান ও ভারত একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে। বর্তমান অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এমন পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

মোদি জানিয়েছেন, দুই দেশ নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জাহাজ নির্মাণ, বায়োগ্যাস, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, "আগামী ১০ বছরে জাপানের বিনিয়োগ ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করব এবং ভারতে কার্যরত জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ করব।"

তিনি আরও বলেন, "আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আমরা যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন করব।"

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা প্রায় ১২০টি ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে ভারতে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তাকাইচির সফরসঙ্গী হিসেবে ৫০ জনের বেশি জাপানি ব্যবসায়ী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ভারতে এসেছেন। তাদের মধ্যে সুজুকি মোটর, টয়োটা, ইতোচু করপোরেশনসহ অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

জাপান ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী। মুম্বাই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেলপথসহ একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটি অর্থায়ন করছে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদন খাতের।

এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত উৎপাদনশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও বিরল খনিজের ক্ষেত্রে এখনো অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে জাপানের মতো অংশীদারদের সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি কয়েক বছরের উত্তেজনার পর বেইজিংয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।

অন্যদিকে, চীন ইস্যুতে তাকাইচির অবস্থান অনেক বেশি কঠোর। গত নভেম্বরে তিনি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিক পদক্ষেপেও অংশ নিতে পারে। এ মন্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

দেশবার্তা/এমআর

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।