ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত জুন মাসে মাত্র আট দিনের তাপপ্রবাহে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তিন দেশের সরকারি হিসাবের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আট দিন স্থায়ী এই তাপপ্রবাহকে ইউরোপের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ইউরোপের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদদের মতে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই এবার ইউরোপে এমন নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই আগে থেকেই কোনো না কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা জটিলতায় ভুগছিলেন। তীব্র গরমের কারণে তাঁদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়।
ফ্রান্সে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি
৩ হাজার ৭০০ মৃত্যুর সিংহভাগই ঘটেছে ফ্রান্সে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট গতকাল শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানান, জুন মাসের আট দিনের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের গরমে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ধারণা, সরকারিভাবে আমাদের হাতে যে সংখ্যা এসেছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের পরিস্থিতি
বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১৮ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে দেশটিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫৩০ জনের বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া ১৮০ জনের বয়স ৬৫ বছরের কম এবং বাকিরা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে।
এক বিবৃতিতে বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু আমাদের দেশে অভূতপূর্ব ঘটনা। এর আগে কোনো গ্রীষ্মকালে এত বেশি অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু ঘটেনি।
এদিকে নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুন মাসের আট দিনের তাপপ্রবাহে দেশটিতে ৪৮০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশেরই বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে। সূত্র: রয়টার্স
দেশবার্তা/একে