ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২১:১৩
চলমান বার্তা:
‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪০ আপডেট: ০৬.০৭.২০২৬ ১৭:৫০  (ভিজিটর : )

‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগীতশিল্পী। তবে প্রয়াণের এই দিনে সিনেমা কিংবা সংগীত পাড়ায় তাকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য বরাবরের মতোই তার জন্মস্থান রাজশাহীতে জেলা প্রেসক্লাব ও আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

এন্ড্রু কিশোর তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ঠিক কত গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন, সেই সঠিক সংখ্যাটা তিনি নিজেও জানতেন না। 

তবে অনেকের মতে, তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১৫ হাজারের কম নয়। এর মধ্যে জনপ্রিয় গানের সংখ্যা এত বেশি যে, অনেক শিল্পীর গোটা ক্যারিয়ারের মোট গানের সংখ্যাও তার জনপ্রিয় গানের সমান হবে না। আর এ কারণেই তাকে সংগীত জগতের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ বলা হয়।

এই মহান শিল্পীর জন্ম ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর, রাজশাহীতে। তার মা ছিলেন অত্যন্ত সংগীতানুরাগী এবং তিনি বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারের গান ভীষণ পছন্দ করতেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি পুত্রের নাম রেখেছিলেন ‘কিশোর’। পরবর্তীতে মায়ের ইচ্ছেতেই এন্ড্রু কিশোর গানকে নিজের পেশা ও সাধনা হিসেবে বেছে নেন। দেশের স্বাধীনতার পরপরই তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোক ও দেশাত্মবোধক সংগীতের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

তিনি মূলত ছিলেন চলচ্চিত্রের এক অদ্বিতীয় ও কালজয়ী গায়ক। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার অপ্রতিদ্বন্দ্বী পথচলা শুরু হয়। এই ছবিতে বিশিষ্ট সুরকার আলম খানের সুরে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী’ গানটি গেয়েছিলেন। তবে শ্রোতাদের হৃদয়ে এন্ড্রু কিশোর পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেন ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতীজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটির মাধ্যমে। এরপর থেকে একে একে তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে থাকে অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান।

তার গাওয়া কালজয়ী গানের তালিকায় রয়েছে ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুশ’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ এবং ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’-এর মতো অসংখ্য তুমুল জনপ্রিয় গান।

অনবদ্য গায়কীর সুবাদে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে রেকর্ড আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এর পাশাপাশি পাঁচবার বাচসাস পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। আজ এই মহান শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তার অগণিত ভক্ত ও অনুরাগীরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।